তারুণ্যের জাতিসংঘ: ভবিষ্যৎ বিশ্বনেতা তৈরির এক অনন্য মঞ্চ

বর্তমান বিশ্বে তরুণদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে, আকন্দ ফাউন্ডেশনের অন্যতম বৃহৎ এবং যুগান্তকারী উদ্যোগ হলো ‘তারুণ্যের জাতিসংঘ’ শীর্ষক সেমিনার। সম্প্রতি BIST-এর অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই সেমিনারটি ছিল তরুণদের মেধা, মনন ও নেতৃত্ব বিকাশের এক অনন্য ক্ষেত্র। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত মেধাবী শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করে, যা এই আয়োজনকে একটি সত্যিকারের মিলনমেলায় পরিণত করে।

সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য ছিল শুধু প্রচলিত বক্তৃতা বা আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তরুণদের চিন্তার জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করা। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে তারা তাদের নিজস্ব ভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যৎ বিশ্বের জন্য তাদের পরিকল্পনাগুলো নির্ভয়ে তুলে ধরতে পারে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন যুবসমাজকে বৈশ্বিক সংকট ও সম্ভাবনাগুলো সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে, তেমনই জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার নীতিমালা, কার্যক্রম ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কেও একটি সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে।

এই সেমিনারের অধিবেশনগুলো ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি হিসেবে বিভক্ত হয়ে জাতিসংঘের আদলে আলোচনায় অংশ নেয়। এখানে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs), পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয় থেকে শুরু করে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, বিশ্বশান্তি এবং সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির মতো বিষয়গুলোও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। শিক্ষার্থীরা শুধু সমস্যাগুলো চিহ্নিতই করেনি, বরং নিজ নিজ অবস্থান থেকে এর সম্ভাব্য সমাধান কী হতে পারে, তা নিয়েও গভীর বিতর্কে লিপ্ত হয়।

‘তারুণ্যের জাতিসংঘ’ কেবল একটি জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্র ছিল না, এটি ছিল আত্ম-আবিষ্কারের একটি প্রক্রিয়া। এই সেমিনারের মাধ্যমে তরুণরা পাবলিক স্পিকিং, কূটনৈতিক আলোচনা এবং সমস্যা সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে। একে অপরের মতামতকে সম্মান জানিয়ে এবং যুক্তির মাধ্যমে নিজের বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগ দক্ষতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আকন্দ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, সঠিক সুযোগ এবং দিকনির্দেশনা পেলে আমাদের তরুণ প্রজন্ম বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। এই সেমিনারটি ছিল তরুণদের মাঝে বৈশ্বিক নাগরিক হওয়ার চেতনা জাগ্রত করার একটি সফল প্রয়াস, যা তাদের ভবিষ্যতে সমাজে আরও বড় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য প্রস্তুত করে তুলবে।

Facebook
WhatsApp
Telegram
Threads
Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রতিষ্ঠাতা
ব্যারিষ্টার মো জাহিদ হাসান আকন্দ

আকন্দ ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু হয়েছিল একটি সাধারণ উদ্দেশ্য নিয়ে—অসহায় মানুষের পাশে ভালোবাসা ও সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়া। আমরা যে কোনো কিছুই সরবরাহ করি, যে খাবারই ভাগ করে নিই, অথবা যে জীবনকেই স্পর্শ করি না কেন, তার প্রতিটিতেই আমাদের সেই মূল লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়।

আমাদের পাশে থাকুন
ফেইসবুক
হোয়াটসএপ
ইমেইল
টেলিগ্রাম