আমাদের স্টেশন, আমাদের দায়িত্ব: শ্রীপুরে এক গণ-পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগ

একটি এলাকার রেলষ্টেশন সেই এলাকার প্রবেশদ্বার এবং এর পরিচ্ছন্নতা সেখানকার মানুষের রুচি ও সচেতনতার পরিচায়ক। এই ভাবনা থেকেই আকন্দ ফাউন্ডেশন শ্রীপুর রেলষ্টেশনে এক масштабный পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আয়োজন করে, যা কেবল একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ ছিল না, বরং এটি ছিল সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার এক শক্তিশালী প্রয়াস।

শুধু পরিচ্ছন্নতা নয়, জনতার অংশগ্রহণ

এই কর্মসূচির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এর সর্বজনীন অংশগ্রহণ।

  • স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা: শতাধিক উদ্যমী স্বেচ্ছাসেবক এই কর্মসূচির চালিকাশক্তি ছিল। তারা নিজেরা হাতে ঝাড়ু ও বেলচা নিয়ে প্ল্যাটফর্ম, রেললাইন এবং স্টেশনের আনাচকানাচ থেকে আবর্জনা পরিষ্কার করে।
  • জনসচেতনতা সৃষ্টি: পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি, স্বেচ্ছাসেবকরা যাত্রীদের সাথে কথা বলেন, তাদের যত্রতত্র ময়লা না ফেলার জন্য অনুরোধ করেন এবং পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব বোঝাতে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।
  • শিশু-কিশোরদের জন্য শিক্ষা: কর্মসূচিতে শিশু-কিশোরদের যুক্ত করে তাদের শেখানো হয় যে, একটি পরিষ্কার পরিবেশ কীভাবে রোগব্যাধি থেকে আমাদের মুক্ত রাখে। এই শিক্ষা তাদের মধ্যে শৈশব থেকেই পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
  • সামাজিক ঐক্য: আকন্দ ফাউন্ডেশনের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। এই সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, এটি কোনো একক সংগঠনের কর্মসূচি ছিল না, বরং এটি ছিল শ্রীপুরবাসীর একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল।

লক্ষ্য: অভ্যাস পরিবর্তন ও স্থায়ী সমাধান

এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শুধু একদিনের জন্য স্টেশন পরিষ্কার করা নয়, বরং মানুষের অভ্যাস পরিবর্তন করে একটি স্থায়ী সমাধান তৈরি করা। যখন সাধারণ মানুষ এবং যাত্রীরা নিজেরা তাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নেয়, তখনই সত্যিকারের পরিবর্তন আসে। আকন্দ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগটি সেই সামাজিক দায়িত্ববোধকেই উস্কে দিয়েছে, যা একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত।

Facebook
WhatsApp
Telegram
Threads
Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রতিষ্ঠাতা
ব্যারিষ্টার মো জাহিদ হাসান আকন্দ

আকন্দ ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু হয়েছিল একটি সাধারণ উদ্দেশ্য নিয়ে—অসহায় মানুষের পাশে ভালোবাসা ও সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়া। আমরা যে কোনো কিছুই সরবরাহ করি, যে খাবারই ভাগ করে নিই, অথবা যে জীবনকেই স্পর্শ করি না কেন, তার প্রতিটিতেই আমাদের সেই মূল লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়।

আমাদের পাশে থাকুন
ফেইসবুক
হোয়াটসএপ
ইমেইল
টেলিগ্রাম